
গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকাশিত রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বলেছেন, গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি এবং এই রায় বাস্তবায়ন না হলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন। সমাবেশটি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘গণরায় উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে’
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় উপেক্ষা করে সীমিত সংশোধনের পথে অগ্রসর হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, “সংবিধান সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসবে না।”
সংস্কার প্রস্তাব ও দাবি
খেলাফত মজলিস মহাসচিব বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে—
সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
উচ্চকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট বাধ্যতামূলক করা
নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ আরও বলেন, গণরায় অমান্য করা হলে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এতে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচি
সমাবেশে দলের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসান জালালী এবং বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে জুমা ও আসরের নামাজের পর মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও বিভক্তি ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিজেদের অবস্থান থেকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতায় না গেলে রাজপথে চাপ আরও বাড়তে পারে।