
সরকারি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান-এর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান।
ওয়াকআউটের আগে সংসদে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ সংশোধিত আকারে পাস হওয়া নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধী দলের অভিযোগ, পূর্বের সমঝোতা উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে সংশোধনী এনে আইনটি পাস করেছে, যা সংসদীয় আস্থার লঙ্ঘন।
‘বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগে উত্তপ্ত সংসদ
বিতর্কের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা সরকার ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা দুঃখ নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি। ভবিষ্যতে আবার দেখা হবে।”
এর আগে বিকেলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিশেষ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশটি হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল সংসদের বিশেষ কমিটি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনটি সংশোধনী এনে আইনটি পাস করা হয়, যা নিয়ে বিরোধী দল আপত্তি জানায়।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংশোধনীর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “দিনদুপুরে ছলচাতুরীর মাধ্যমে বিলটি সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে।”
সরকারি দলের ব্যাখ্যা
সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশোধনী একজন বেসরকারি সদস্য প্রস্তাব করেছেন, সরকার নয়। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবার সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে বিরোধী দল এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি এবং সংশোধনীগুলোকে পরিকল্পিত পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দেয়।
কোন কোন সংশোধনী আনা হলো
পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী—
পর্ষদের সভাপতির পদে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
সরকারের হাতে সদস্য মনোনয়ন বাতিলের ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে
সভাপতির মেয়াদসংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে
মূল অধ্যাদেশে বলা ছিল, ইতিহাস, সাহিত্য বা সংস্কৃতির প্রথিতযশা কোনো বিশেষজ্ঞ পর্ষদের সভাপতি হবেন। কিন্তু সংশোধনের মাধ্যমে সেই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়।
স্পিকারের রুলিং
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্পিকার জানান, আইন প্রণয়নের এই পর্যায়ে এসে নতুন করে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই। আগে থেকেই সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার কথা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর কণ্ঠভোটে সংশোধিত বিলটি পাস হয়।
ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত
বিতর্ক ও উত্তেজনার মধ্যে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। এ সময় সংসদে মুহূর্তের জন্য উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরে অধিবেশন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ওয়াকআউট সংসদের ভেতরে বিরোধী ও সরকারি দলের মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে। অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং সংসদীয় সমঝোতা—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও গভীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।