
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে পৌঁছে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সংলাপের জন্য প্রস্তুত থাকলেও ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থা নেই। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আস্থার ঘাটতি রয়েছে, তবে একটি বাস্তবসম্মত চুক্তির সুযোগ থাকলে ইরান আলোচনায় আগ্রহী।
শুক্রবার রাতে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। এই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গালিবাফ নিজেই। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
‘সদিচ্ছা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন,
“আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকারের ও বাস্তবসম্মত একটি চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে ইরানও সেই আলোচনায় ইতিবাচকভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত।
গালিবাফ অভিযোগ করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর মতে, সেই অভিজ্ঞতাই বর্তমান আস্থাহীনতার মূল কারণ।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদলও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।
কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আস্থার ঘাটতি, অন্যদিকে সমঝোতার সম্ভাবনা—এই দুই বিপরীত অবস্থান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
তবে দুই পক্ষেরই প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রেক্ষাপট
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার—এসব ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বারবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ এই আলোচনা সেই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনের একটি নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা