প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 14, 2026 ইং
ইরানি বন্দর অবরোধ পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দর লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এ ধরনের সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী বা সেনা মোতায়েন করা হবে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে ইরানি বন্দর অবরোধ কার্যকরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ব্রিটেন সরাসরি অংশ নেবে না।
সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়াল যুক্তরাজ্য
সরকারি মুখপাত্র বলেন, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও সেনা ইরানি বন্দর অবরোধে ব্যবহার করা হবে না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ অভিযানে যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ করবে না।
তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, অঞ্চলটিতে ব্রিটেনের কিছু প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাইন অপসারণকারী ইউনিটের কার্যক্রম এবং ড্রোনবিরোধী নজরদারি চালু থাকবে বলে জানানো হয়।
নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর জোর
ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক জলপথ উন্মুক্ত রাখার নীতিকে সমর্থন করে আসছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, এই রুট দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয়, যা শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতিই নয়, যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৌশলগত বিভাজনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত ভিন্নতার ইঙ্গিত দেয়। যদিও যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা সহায়তা ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, তবে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে যুক্ত না হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস