
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস’ (নাস)-এর পাইলটিং পরীক্ষা। সরকারি এই উদ্যোগকে মাধ্যমিক শিক্ষার মান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে পরীক্ষা
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, দেশের ৩০টি উপজেলা থেকে বাছাই করা ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পাইলটিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে লটারি বা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষায় ষষ্ঠ, অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে—যারা বর্তমানে যথাক্রমে সপ্তম ও নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং এসএসসি/দাখিল পরীক্ষার প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
তিন বিষয়ে মূল্যায়ন
এই মূল্যায়ন কার্যক্রমে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিনটি মূল বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখনফল কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিরূপণই এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।
সময়সূচি ও পরীক্ষা পদ্ধতি
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হয়।
বাংলা: সকাল ৯:৩০ – ১০:৪০
ইংরেজি: বেলা ১১:০০ – ১২:১০
গণিত: দুপুর ১২:৩০ – ১:৪০
প্রতিটি বিষয়ের মাঝে ২০ মিনিটের বিরতি রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।
প্রশ্নপত্র যাচাইই মূল লক্ষ্য
এই পাইলটিং পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত প্রণীত প্রশ্নপত্রের কার্যকারিতা, মান ও উপযোগিতা যাচাই করা হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চালুর আগে এই ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের অধীনে, যা বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই জাতীয় মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা পাবে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও তদারকি
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরীক্ষার আগের দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র সিলগালা করে নিরাপদে ‘লেইস’ প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিতকরণই লক্ষ্য
শিক্ষাবিদদের মতে, এই মূল্যায়নের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনফল নির্ধারণের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
মাউশি সংশ্লিষ্ট সব জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সামগ্রিক গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘নাস’ উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তি তৈরি করবে।