
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং অঞ্চলের দীর্ঘদিনের গুর্খা সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা Amit Shah। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হবে।
বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য জেলা দার্জিলিংয়ে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তিনি সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। পরে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে মালদা থেকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন তিনি।
‘গুর্খাদের সমস্যা সমাধান করবে বিজেপি’
ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, দার্জিলিং অঞ্চলের গুর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করা বিজেপির অগ্রাধিকার হবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই দার্জিলিংয়ে গুর্খাদের সমস্যার সমাধান হোক। বিজেপি ক্ষমতায় এলে গুর্খাদের সমস্যার নিশ্চিত সমাধান হবেই।”
তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee–কে উদ্দেশ করে অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট আন্তরিক নয়।
অমিত শাহ বলেন, তিনি একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, এমনকি কলকাতায় এসে বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে কোনোবারই সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গুর্খা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং প্রশাসনিকভাবে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক বার্তা
দার্জিলিংয়ের কর্মসূচি বাতিলের পর অমিত শাহ জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে পৃথক জনসভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “ত্রিপুরা, আসাম ও বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সরকার গঠন করুন। আমরা তৃণমূলের দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের চিহ্নিত করব।”
তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মমতার পাল্টা অভিযোগ: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অর্থ ও নিরাপত্তা ইস্যু
অন্যদিকে একই দিনে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে নির্বাচনী জনসভা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। সেখানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, রাজ্যের নেতাদের গাড়ি তল্লাশি করা হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কেন তল্লাশি হয় না। তাঁর ভাষায়, “আমার গাড়িও তল্লাশি হোক, আমি চ্যালেঞ্জ করছি।”
মমতা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ পরিবহন করা হচ্ছে—যা নির্বাচনী নীতিমালার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প এবং বেকার ভাতা কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী উত্তেজনা তুঙ্গে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে দমন-পীড়ন ও উচ্ছেদের রাজনীতি চালু হতে পারে। তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এরপর তিনি শিলিগুড়ি ও মালদায় একাধিক রোড শোতে অংশ নেন, যা উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করে।