
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার শুরু
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল পৌনে চারটা থেকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের চার শতাধিক আগ্রহী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। পরদিন শনিবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
সংক্ষিপ্ত সময়, সম্মিলিত নির্দেশনা
সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া নেত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর কারণে প্রত্যেককে মাত্র এক থেকে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সময় সংকটের কারণে পরবর্তীতে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের একত্রে ডেকে মনোনয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী আরিফা সুলতানা জানান, রংপুর বিভাগের সাক্ষাৎকার শেষ করতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। পরে অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে সময় বাঁচাতে সম্মিলিতভাবে ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে—দল সবার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত এবং যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।
নারী নেত্রীদের ভূমিকা মূল্যায়নের ইঙ্গিত
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল আজকের অবস্থানে এসেছে এবং এই যাত্রায় নারীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, গত ১৫–১৬ বছরের আন্দোলনে অনেক নারী নেত্রী মামলা, হামলা, নির্যাতন ও পারিবারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা, জ্ঞান ও আইন প্রণয়নের সক্ষমতাও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে।
নির্বাচনী তফসিল: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
এদিকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী—
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২১ এপ্রিল
যাচাই-বাছাই: ২২–২৩ এপ্রিল
আপিল: ২৬ এপ্রিল
আপিল নিষ্পত্তি: ২৭–২৮ এপ্রিল
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন: ২৯ এপ্রিল
আসন বণ্টনের চিত্র
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্রদের জন্য থাকবে একটি আসন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুধু প্রার্থী বাছাই নয়, বরং দলের ভেতরে ত্যাগী ও সক্রিয় নারী নেত্রীদের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একই সঙ্গে আসন্ন সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকর নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির এই উদ্যোগ দলীয় কাঠামো পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের ভারসাম্য আনতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।