প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 18, 2026 ইং
বজ্রপাতে লণ্ডভণ্ড জনপদ: দুই দিনে ৯ প্রাণহানি, আতঙ্কে হাওরাঞ্চল

কালবৈশাখীর আকস্মিক থাবায় গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খোলা মাঠে কাজ করার সময় বা গবাদিপশু আনতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
সুনামগঞ্জ: বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই জেলাটি। গত শুক্রবারেই জেলার ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও দিরাই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার জামালগঞ্জে ধান কাটার সময় নুর জামাল (২৬) নামে এক যুবক প্রাণ হারান এবং তোফাজ্জল হোসেন নামে একজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া ভীমখালী ইউনিয়নে বজ্রাঘাতে দুটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে।
হবিগঞ্জ: শনিবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের মমিনা হাওরে ধান কাটার সময় সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষক বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ময়মনসিংহ: গফরগাঁও উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন সত্তরোর্ধ্ব কৃষক মো. মমতাজ আলী খান। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নিহতের ঘটনাই ঘটেছে খোলা হাওর বা বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে।
আকস্মিক কালবৈশাখী: ঝড়ের শুরুতেই তীব্র বজ্রপাত হওয়ায় কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না।
ধান কাটার মৌসুম: বৈশাখের এই সময়ে কৃষকরা দিনের দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে অবস্থান করেন, যা তাদের বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলছে।
সতর্কতার অভাব: বজ্রপাত শুরুর পর দীর্ঘক্ষণ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা এই প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ।
জনমনে উদ্বেগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
টানা দুই দিন ধরে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামীণ জনপদে, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রতিটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: মেঘের গর্জন শোনা মাত্রই খোলা মাঠ বা জলাশয় থেকে সরে গিয়ে কোনো পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। এছাড়া বজ্রপাতের সময় ধাতব বস্তু ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকা জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস