প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা: পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ কিভাবে কার্যকর হবে

ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পাবলিক পরীক্ষায় বহুল আলোচিত ‘নীরব বহিষ্কার’ (সাইলেন্ট এক্সপেল) পদ্ধতি বাতিল করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানায়, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা–২০২৬–এর অনুচ্ছেদ ২৯ আর বহাল থাকছে না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই ধারা বাতিল বলে গণ্য হবে।
কী ছিল ‘নীরব বহিষ্কার’?
বাতিল হওয়া অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা যেত। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে শাস্তি না দিয়ে পরীক্ষা শেষে গোপনীয়ভাবে বিষয়টি নথিভুক্ত করার বিধান ছিল।
নীতিমালায় আরও বলা ছিল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা শেষে কক্ষ পরিদর্শককে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি গোপন প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে এবং পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে উত্তরপত্রের ওএমআর শিটের প্রথম অংশ আলাদা না করার নির্দেশনাও ছিল।
কেন বাতিল করা হলো?
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনার পর এই ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়াকে আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কী প্রভাব পড়তে পারে?
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘নীরব বহিষ্কার’ বাতিল হওয়ায় এখন পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি আরও দৃশ্যমান ও কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে। এতে পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্বও বাড়তে পারে।
সামনে কী?
বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে। এখন থেকে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরাসরি ও প্রকাশ্য পদ্ধতিই অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস