প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং
‘নীরব বহিষ্কার’ তুলে নিতে নির্দেশ, নীতিমালায় আসছে পরিবর্তন

পাবলিক পরীক্ষায় বহুল আলোচিত ‘নীরব বহিষ্কার’ (সাইলেন্ট এক্সপেল) পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যমান নীতিমালায় থাকা এই বিধান দ্রুত পরিবর্তন করা হবে।
শনিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মতবিনিময় সভায় আলোচনা
সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী তা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান।
মন্ত্রীর অবস্থান
সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো বিধানে ‘অস্বচ্ছ’ বা ‘আনডিউ’ কিছু থাকা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনেও ‘নীরব বহিষ্কার’-এর কোনো উল্লেখ নেই। বরং এটি মূলত ১৯৬১ সালের বোর্ডের পুরোনো নীতিমালার অংশ হিসেবে থেকে গেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এ ধরনের গোপন বা অপ্রকাশ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর প্রাসঙ্গিক নয়। তাই দ্রুত এই ধারা বাতিল করে নীতিমালাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রকাশ্যে না আসায় জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকত। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হবে আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান।
সামনে করণীয়
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর শিক্ষা বোর্ডগুলো সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানা গেছে। সংশোধিত নীতিমালা কার্যকর হলে আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস