
কার্টুন প্রকাশ, লেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না—এমন দাবি জানিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, সরকারের সমালোচনা রাজনৈতিকভাবে কঠোর ভাষায়ও করা হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব মন্তব্য করা হয়।
গ্রেপ্তার ও মতপ্রকাশ নিয়ে কঠোর অবস্থান
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, কার্টুন প্রচার বা লেখালেখির কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি কার্টুনকে কেন্দ্র করে একজন অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, “কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সরকারের সমালোচনা হবে, কড়া ভাষায়ই হবে। যদি সরকারের সাহস থাকে আমাদের গ্রেপ্তার করে দেখাক।”
জাহিদ আহসান আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে দমন-পীড়ন চালানো হলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে প্রতিফলিত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজনৈতিক তুলনা ও অভিযোগ
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের আচরণে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে দমনমূলক আচরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে এসব বক্তব্য রাজনৈতিক মতামত হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি এবং এর পক্ষে কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
কার্টুন গ্রেপ্তার ইস্যুতে প্রতিবাদ
সমাবেশে অ্যাক্টিভিস্ট এ এম হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিও জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন শেয়ারকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
ছাত্রশক্তির সভাপতি বলেন, ব্যঙ্গ বা সমালোচনামূলক কার্টুনকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মামলা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা
সমাবেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলা হলেও তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, “মজুত থাকলে দাম বাড়ানো হলো কেন—এ প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।”
রাজনৈতিক দায় ও ভবিষ্যৎ হুঁশিয়ারি
সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সংকটের দায় সরকারকে নিতে হবে।
তবে বক্তৃতাগুলোতে সরকার বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা স্বাধীন যাচাই উপস্থাপন করা হয়নি।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্থানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক গ্রেপ্তার এবং জ্বালানি মূল্যনীতি—এই তিনটি ইস্যু ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য উঠে আসে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।