প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 21, 2026 ইং
উপজেলা পরিষদ কার্যক্রমে এমপিদের অংশগ্রহণে নতুন উদ্যোগ

উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভেতরে জনপ্রতিনিধিদের কার্যক্রম আরও সহজ ও সমন্বিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানানো হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্যদের একটি দাবি ছিল যে উপজেলা পরিষদে গেলে তাঁদের বসার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা থাকে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দোতলায় সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি নির্ধারিত কক্ষ প্রস্তুত করা হবে। কক্ষগুলোতে আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং সংযুক্ত বাথরুমের ব্যবস্থা থাকবে।
তবে কক্ষগুলোর নাম সরাসরি ‘এমপি কক্ষ’ না রেখে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের নামে আলাদা কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার প্রশাসনিক বিধান না থাকায় এ বিকল্প নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কক্ষগুলো মূলত পরিদর্শন, জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়মূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো সংসদীয় আসনে একাধিক উপজেলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সব উপজেলায় ওই আসনের সংসদ সদস্যের জন্য এই পরিদর্শন কক্ষ ব্যবহারযোগ্য থাকবে।
এদিকে সংসদে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন পক্ষ। তবে আলোচনার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এমপিদের জন্য শুধু কক্ষ নয়, সরকারি গাড়ির ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। তাঁর এই বক্তব্যের সময় সংসদের অনেক সদস্য টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি বরাদ্দের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার অনুরোধ জানান।
এর আগে গত ৩১ মার্চ সংসদে উপজেলা পর্যায়ে এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছিলেন এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান। তাঁর সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন এই ব্যবস্থা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করবে এবং উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াবে। তবে প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এর কার্যকারিতা কতটা সুসংহত হবে, তা বাস্তব প্রয়োগের পরই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস