
৪–১৩ বছর বয়সীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার লক্ষ্য, কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, বর্তমান পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে এবং এই পুরো স্তরকে অবৈতনিক রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত শিক্ষা খাতে বাজেটসংক্রান্ত এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নেওয়ার উদ্যোগ একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকসংস্থান।
তিনি বলেন, “প্রাথমিক গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”
বর্তমানে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং তা সম্পূর্ণ অবৈতনিক। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাধ্যমিক স্তরের একটি অংশ প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় চলে আসবে, যা শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
অবৈতনিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এতে প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার কমবে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
বাজেট আলোচনায় শিক্ষা অগ্রাধিকার
অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো এবং তা কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি বাড়াতে হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট অপরিহার্য।
প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও এর বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে নতুন শ্রেণিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এ অবস্থায় নীতিনির্ধারকরা বলছেন, পরিকল্পনাটি সফল করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।