প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 23, 2026 ইং
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা: সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা

দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি গ্রামে একটি বেসামরিক গাড়ি ও একটি ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক টার্গেট ও প্রাণহানি
নিহত সাংবাদিক: স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল আখবার-এর সাংবাদিক আমাল খলিল এই হামলায় নিহত হয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন ড্রোন হামলার মুখে তিনি একটি ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ভবনটিতে বিমান হামলা চালানো হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
আহত সাংবাদিক: তাঁর সহকর্মী জয়নব ফারাজ বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যান্য নিহতের খবর: আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২ জন এবং ইয়োহমোর আল-শাকিফ এলাকায় পৃথক হামলায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন।
লেবানন ও ইসরায়েলের পাল্টা দাবি
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। উদ্ধারকাজ ব্যাহত করতে হামলার আশপাশেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, আক্রান্ত গাড়িটি হিজবুল্লাহর একটি সামরিক স্থাপনা থেকে বের হয়েছিল এবং তারা কেবল সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের বিস্তৃতি ও পাল্টা প্রতিরোধ
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা আকাশসীমায় একটি শত্রু ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও ফরাসি সেনার মৃত্যু
লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিল (UNIFIL)-এর ওপর সাম্প্রতিক এক হামলায় আহত ফরাসি সেনা করপোরাল আনিসেত গিরার্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই রক্তক্ষয়ী হামলা বন্ধ না হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস