
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক সমালোচনার মধ্যেই নতুন করে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে এবং চেষ্টা করলেও তারা কখনো আওয়ামী লীগের মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে না।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা’দের সম্মানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ
সমাবেশে প্রধান বক্তৃতায় শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে চলার মাধ্যমে “ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে”। তার ভাষায়,
“হাজার চেষ্টা করেন, ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি জনগণের রায় মানছে না এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে দ্বৈত অবস্থান নিচ্ছে।
গণরায় ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে মন্তব্য
জামায়াত আমির দাবি করেন, দুটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত ভিন্নভাবে প্রকাশ পেলেও বিএনপি শুধুমাত্র নিজেদের পক্ষে যাওয়া ফলাফল মেনে নিয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী,
একটি ভোটে নিজেদের পক্ষে ফলাফল তারা গ্রহণ করেছে
কিন্তু ৭০ শতাংশ জনগণের “সংস্কারের পক্ষে রায়” তারা মানছে না
তিনি বলেন, “৭০ শতাংশ ভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে দেশে সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটবে।”
জুলাই আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শফিকুর রহমান দাবি করেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, এই আন্দোলন না হলে বিএনপি ক্ষমতার সুযোগ পেত না।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের কারণে বিদেশে থাকা কিছু রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সহিংসতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি শিক্ষাঙ্গনে দা-কিরিচ-কুড়ালের সংস্কৃতি বন্ধ করে কলম-খাতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
তার ভাষায়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আমরা অস্ত্রের জায়গা হিসেবে দেখতে চাই না, এটি জ্ঞানচর্চার স্থান হওয়া উচিত।”
গণভোট ও রাজনৈতিক বিতর্ক
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে, এখন সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের।
শহীদ পরিবার ও আহতদের বক্তব্য
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা। তাঁরা দ্রুত বিচার ও ঘোষিত রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান।
আহত এক যোদ্ধা বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক ও অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে এই ধরনের সমাবেশ রাজনৈতিক চাপ ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তারা মনে করছেন।
রাজধানীর এই সমাবেশে জামায়াত আমিরের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামো, গণরায় ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।