প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং
ভঙ্গুর আর্থিক খাত ও পুঁজি সংকট: অর্থমন্ত্রীর বিশ্লেষণ

অতীতের ডিক্টেটোরিয়াল রেজিমের (স্বৈরাচারী শাসন) রেখে যাওয়া অর্থনীতির ক্ষতগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু উদ্বেগের কথা জানান।
১. ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের বিপর্যয়
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় সেগুলো এখন মূলধন সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি শেয়ার বাজারে ধারাবাহিক লুটপাটের কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই খাতকে পুনরায় সচল করতে এখন বড় ধরণের ‘রেজুলেশন’ বা সংস্কার প্রয়োজন।
২. মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যবসায়ীদের দুর্দশা
দেশের বেসরকারি খাতের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান:
মুদ্রার অবমূল্যায়ন: টাকার মান প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের কার্যকরী মূলধন (Working Capital) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির চাপ: ১৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও দিশেহারা। পুঁজি হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী এখন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।
৩. সরকারের সীমাবদ্ধতা ও দায়ভার
লুণ্ঠিত ব্যাংকগুলোকে পুনর্মূলধনীকরণ (Re-capitalization) করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সরকারের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে আমরা যে অর্থনীতি ইনহেরিট (উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া) করেছি, তাতে সরকারের তহবিলে এখন পর্যাপ্ত অর্থ নেই যে সবকিছু আমরা একবারে ঠিক করে ফেলব। তবে এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পুরো দায়ভার এখন আমাদের কাঁধেই।”
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে উত্তরণের পথ
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা অলিগার্কদের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে।
সবার জন্য সমান সুযোগ: সরকার এমন একটি অর্থনীতি গড়তে চায় যেখানে সুবিধাভোগী শ্রেণির পরিবর্তে সাধারণ উদ্যোক্তারা সমান সুযোগ পাবেন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও কার্ড সিস্টেম: প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ এর ওপর জোর দিচ্ছে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন: আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সারসংক্ষেপ: অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, বিগত কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অনিয়ম সংশোধন করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বচ্ছতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস