
মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald Trump বারবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হামলার হুমকির মুখে পড়েছেন বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ওয়াশিংটনের একটি অভিজাত হোটেলে গুলির শব্দ শোনার পর তিনি নিজেই মন্তব্য করেন, প্রেসিডেন্ট পদকে তিনি “অত্যন্ত বিপজ্জনক পেশা” বলে মনে করেন।
ওই ঘটনার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অতিথিরা দ্রুত নিরাপত্তার জন্য টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন এবং প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters এবং USA Today জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
তবে এটি প্রথম ঘটনা নয়—ট্রাম্প একাধিকবার সরাসরি হামলা, গুলির চেষ্টা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পাশাপাশি অতীতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা আবার সামনে এসেছে।
জুলাই ২০২৪: নির্বাচনী সমাবেশে গুলি
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে Pennsylvania-এর বাটলারে এক নির্বাচনী সমাবেশে। ভাষণ চলাকালে পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
এ ঘটনায় ট্রাম্প আহত হন এবং তার ডান কান থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। সমাবেশে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়।
সেপ্টেম্বর ২০২৪: গলফ কোর্সে হত্যাচেষ্টা
একই বছর সেপ্টেম্বরে Florida-এর ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গলফ রিসোর্টে অবস্থানকালে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে আরেকটি হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তদন্তে জানা যায়, একজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাকে শনাক্ত করে আটক করে। পরে তাকে রায়ান ওয়েসলি রুথ নামে চিহ্নিত করা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১৬: নির্বাচনী প্রচারে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনা
প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার চলাকালে ২০১৬ সালেও ট্রাম্প একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েন।
নভেম্বর ২০১৬, নেভাদা: রেনোতে সমাবেশ চলাকালে ভিড় থেকে “বন্দুক” চিৎকারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায়, ঘটনাটি ছিল মিথ্যা আতঙ্ক, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
জুন ২০১৬, লাস ভেগাস: এক ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র ছিনিয়ে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।
মার্চ ২০১৬, ওহাইও: এক ব্যক্তি ট্রাম্পের মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, বারবার এমন ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক বিভাজন এবং অনলাইন উসকানির প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনরত ট্রাম্পের জন্য নিরাপত্তা এখন শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।