প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং
এনসিপির ঢাকা দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ইসহাক সরকার

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলে যোগ দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হলো।
রোববার বিকেলে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটির আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস আনা হয়েছে।
কমিটি পুনর্গঠন ও আকার কমানো
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগের ১১৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করে নতুন কমিটির আকার ৬৫ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে দলটি।
আগের কমিটির আহ্বায়ক পদে থাকা আলাউদ্দীন মোহাম্মদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন ইসহাক সরকারের জন্য জায়গা করে দিতে। তিনি পরে গণমাধ্যমকে বলেন, সিদ্ধান্তটি স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছে এবং এতে তিনি সন্তুষ্ট।
নতুন নেতৃত্ব কাঠামো
নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে পুরান ঢাকার আদেল পরিবারের সদস্য তারেক আহম্মেদ আদেলকে। তিনি পূর্বে জাতীয় পার্টির (জাপা) উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসাদ বিন রনিকে।
এছাড়া নতুন কমিটিতে—
১৮ জন যুগ্ম আহ্বায়ক
২১ জন যুগ্ম সদস্যসচিব
৪ জন সাংগঠনিক সম্পাদক
১৮ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
নিয়ে একটি বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে।
ইসহাক সরকারের রাজনৈতিক পটভূমি
ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তার বিরুদ্ধে তিন শতাধিক মামলা ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায় এবং তিনি দীর্ঘ সময় কারাভোগও করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৭ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে এনসিপিতে যোগ দেন।
দ্রুত দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক আলোচনা
দলে যোগ দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যে তাকে মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি এনসিপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি উদাহরণ।
দলীয় অবস্থান
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব কাঠামো সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত করবে। তবে অভ্যন্তরীণ এই পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ভবিষ্যতে দলটির নগর রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং নতুন নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্তি এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি এখন নগরভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস