
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর “প্রতিবছরই” শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের হালনাগাদ তথ্য জানাতে গিয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। এ সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতির দর্শন, সামরিক অভিযান এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
শান্তির নোবেল নিয়ে মন্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান প্রশাসনের নীতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগকে কি ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ থেকে ‘শান্তি মন্ত্রণালয়’ হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হতে পারে কি না।
জবাবে তিনি সরাসরি এ প্রস্তাব সমর্থন না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির মূল দর্শন হিসেবে ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ ধারণার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজেদের নিরাপত্তাই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছে।
‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতি
হেগসেথ বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়। তার ভাষায়, “আপনি প্রতিরক্ষা থেকে যুদ্ধের দিকে যান, কারণ আপনি আগে থেকেই শক্তির মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করতে চান।”
তিনি আরও বলেন, সামরিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণের প্রতিটি স্তরে এই দর্শন প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত সামরিক পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
যুদ্ধ ও শান্তির ব্যাখ্যা
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সঠিক কৌশল ও দায়িত্বশীল সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এমন একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যেখানে সংঘাত কমে আসে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আবারও পাকিস্তান সফর করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরকে সম্ভাব্য আলোচনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে।
পাকিস্তানের সরকারি পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, আরাগচির বারবার ইসলামাবাদ সফর প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা পুরোপুরি থেমে যায়নি; বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ ধারণা নতুন নয়, তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর এমন প্রকাশিত ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরান সংকটকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।