প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে বেইজিংয়ের পাল্টা হুঁশিয়ারি: উত্তপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চীনের একাধিক বড় প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পর এই প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বেইজিং মনে করছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
১. নিষেধাজ্ঞার কারণ ও লক্ষ্যবস্তু
গত শুক্রবার মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরতে প্রায় ৪০টি নতুন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে চীনের প্রভাবশালী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে:
টি-পট রিফাইনারি: শানডং প্রদেশের বৃহৎ এবং স্বতন্ত্র এই তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল: এই রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ইরানের অর্থায়নের উৎস বন্ধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২. চীনের কঠোর প্রতিক্রিয়া
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
বৈধ অধিকার রক্ষা: বেইজিং তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও বৈশ্বিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা: চীন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এবং জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রকে এই ‘ভুল পথ’ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে লিন জিয়ান বলেন, বেইজিং হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; প্রয়োজনে অর্থনৈতিক বা আইনি পথে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
৩. নেপথ্য রাজনীতি ও আগামী দিনের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের তেলের প্রধান আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা দুই পরাশক্তির সম্পর্কে নতুন করে চির ধরিয়েছে।
শি-ট্রাম্প বৈঠক: আগামী ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এই বৈঠকে জ্বালানি বাণিজ্য এবং সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই চীনের রিফাইনারিগুলোর ওপর এই আঘাত আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরণের দরপতন বা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপ: ওয়াশিংটনের ‘অবরোধ কূটনীতি’র বিপরীতে বেইজিংয়ের ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংকটের সমাধান এখন অনেকটা ঝুলে আছে আগামী মাসের শীর্ষ বৈঠকের ওপর।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস