প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিআইএর চিঠিতে ২৬২ শিক্ষকের সনদ জাল শনাক্ত

শিক্ষা খাতে অনিয়মের আরেকটি বড় চিত্র সামনে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর Directorate of Inspection and Audit (ডিআইএ) কারিগরি ও মাদ্রাসা পর্যায়ের ২৬২ জন শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৫১ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদই জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি বিস্তারিত তালিকা পাঠিয়েছে ডিআইএ। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে অন্যদের ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের অর্থ ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বাধ্যতামূলকভাবে Non-Government Teachers Registration and Certification Authority (এনটিআরসিএ) পরিচালিত নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া লাগে। ডিআইএর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জাল সনদধারী ২৫১ জন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদই ভুয়া। বাকি ১১ জনের ক্ষেত্রে বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগারবিদ্যা বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এর আগে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের ৪৭১ জন শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করেছিল ডিআইএ। সে সময়ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ তালিকা পাঠানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। পরবর্তীতে গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রণালয় Directorate of Secondary and Higher Education (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর)–কে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে বিপুলসংখ্যক জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই, প্রযুক্তিনির্ভর সনদ যাচাই ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হবে।
এদিকে, ডিআইএর এই সর্বশেষ পদক্ষেপের পর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস