
জাতীয় সংসদে এক ব্যতিক্রমী প্রস্তাব তুলে ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন পঞ্চগড়–১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য Nawsad Zameer। তিনি বলেছেন, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন থেকে চার বারের বেশি সংসদ সদস্য হতে না পারেন—এমন একটি নীতিগত সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত।
সোমবার Jatiya Sangsad-এ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব রাখেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed।
নওশাদ জমির বলেন, একজন ব্যক্তি বারবার সংসদ সদস্য থাকলে নতুন প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ সংকুচিত হয়ে যায়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ একটি বড় জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তন ও নতুনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে”—এ কারণেই তিনি এই ব্যক্তিগত মত তুলে ধরছেন, যা দলীয় অবস্থান নয় বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সংবিধান সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্বে না থাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমা নির্ধারণের যৌক্তিকতা থাকতে পারে বলে তিনি মত দেন।
বক্তব্যের সময় তিনি ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয় প্রসঙ্গও টেনে আনেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত নওশাদ জমির বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের দ্বারা রচিত হওয়া উচিত—এমন মত তিনি ছাত্রজীবন থেকেই পোষণ করে আসছেন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় দলিল আরও নিরপেক্ষ ও জনগণকেন্দ্রিকভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, Ziaur Rahman-এর স্বাধীনতার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কিছু ঐতিহাসিক দলিলে এই বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যা সংশোধনের দাবি রাখে।
নওশাদ জমির আরও বলেন, Khaleda Zia গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছেন এবং তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক।
তিনি পিপিপি (Public-Private Partnership) উদ্যোগ, স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তাঁর মতে, লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু কোনো দেশের অনুকরণ নয়, বরং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলা।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তার এই বক্তব্যে সংসদে নতুন করে নেতৃত্বের মেয়াদ, রাজনৈতিক সংস্কার এবং ইতিহাস ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।