প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 29, 2026 ইং
সংসদে আইনমন্ত্রী: স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিচয় নিয়ে আর বিতর্ক নেই

আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিল, তা আইনগতভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই আইনের বিরোধিতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কার্যত কোনো আপত্তি জানায়নি।
বুধবার জাতীয় সংসদ–এ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২৬–এ “বীর মুক্তিযোদ্ধা”–এর যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদেরই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী এবং আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার বাহিনীর ভূমিকা ওই সংজ্ঞার আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাঁর ভাষায়, ‘আইনের কার্যকারিতা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—কারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, কারা হত্যা, গুম ও ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইন সংসদে পাস হওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিরোধিতা করেনি এবং এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অনুসমর্থন দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আহমেদ আজম খান। সংশোধিত আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’দের পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’দেরও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিভুক্ত ও সম্মান জানানোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আলোচনার একপর্যায়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, গণভোট সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নের মধ্যে অধিকাংশ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর আপত্তি ছিল না। ‘বাকি আধা প্রশ্নটি আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’—এভাবে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ভোট চাইতে গিয়ে শুনেছি—কেউ নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছে। নিজ কানে এ কথা শুনেছি।’
আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য সংসদে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস