প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 29, 2026 ইং
সংসদে তীব্র মন্তব্য, ‘আওয়ামী স্টাইলে’ শাসনের অভিযোগ তুললেন রফিকুল ইসলাম

জাতীয় সংসদ–এ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার প্রশাসন পরিচালনায় “আওয়ামী স্টাইল” অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, সরকারের বয়স দুই মাসের বেশি হয়নি, কিন্তু ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ শুরু হয়েছে।
বুধবার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, “সব জায়গায় আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটি লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।” তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে সংসদে রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র হয়।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে অতীতে আন্দোলন করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিবর্তন সেই পুরোনো ধাঁচেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উপাচার্য পরিবর্তন, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের ওএসডি করার ঘটনা বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরনের পরিবর্তন বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল দাবি করছে দেশে বড় কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বাস্তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো বিষয়গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সরকারি দলের অতিরিক্ত সমালোচনার প্রবণতাও রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
তিনি অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার পতনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
রফিকুল ইসলাম খান আরও দাবি করেন, সেদিন খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির অধিকাংশ নেতার ফোন বন্ধ ছিল, ফলে আন্দোলন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি অতীত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সরকারের কর্মকাণ্ডে কোনো বিরোধিতা না করে বরং সহযোগিতা করেছেন। এই কারণে তাকে ধন্যবাদ জানানোর বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেন।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রাখা কেন হয়েছে, তার ব্যাখ্যা রাজনৈতিক অঙ্গনের পক্ষ থেকেই আসা উচিত।
সংসদের এই বক্তব্যকে ঘিরে সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস