
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদল ও বিএনপির বিরুদ্ধে গুজব, অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে চলমান তদন্তের অগ্রগতি জানতে উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর নেতা–কর্মীরা।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম–এর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকারসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ফেসবুক পেজে ছড়ানো অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল ছাত্রদল। নির্ধারিত সময় শেষে তদন্তের অগ্রগতি জানতে তারা সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছাত্রদল নেতারা বলেন, ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।
নেতারা জানান, এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে একাডেমিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ২৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “আমরা একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে পড়াশোনা করতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”
তিনি আরও বলেন, “ফেসবুক পেজ থেকে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই। প্রশাসন আমাদের সময় চেয়েছে, আমরা তা দিতে প্রস্তুত। তবে তদন্ত যেন দেরি না করে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেটিও জানিয়েছি।”
এদিকে, সম্প্রতি শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান তিনি। কমিটিতে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রক্টরকে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন, তবে এখনো বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটিকে আরও কিছু সময় দেওয়া প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, আগের তদন্ত কমিটিতেই নতুন অভিযোগগুলো যুক্ত করা হয়েছে এবং তারা অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে, যার কারণে তদন্তে কিছুটা সময় লাগছে।
সব মিলিয়ে ফেসবুকে ছড়ানো অপতথ্য ও ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতার অভিযোগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে আলোচনা ও নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।