
তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের আওতায় বিপুল সংখ্যক পরিবার ও কৃষককে অর্থ সহায়তা দেওয়া হলেও এর জন্য নতুন করে টাকা ছাপানো হবে না। বরং বিদ্যমান বাজেট ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কাঠামোর মধ্যেই হিসাব-নিকাশ করে এ সহায়তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
বুধবার জাতীয় সংসদ–এ প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এদিন জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্পূরক প্রশ্নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড কর্মসূচির আর্থিক প্রভাব, বাজেট চাপ এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে গেলে বার্ষিক ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে কি না—এ নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা চান।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কোনো একক ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, বরং ধাপে ধাপে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, “সব তথ্য সংগ্রহ করে প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, পরে পর্যায়ক্রমে কাভারেজ বাড়ানো হবে।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা বিভিন্ন সুবিধা পুনর্গঠন ও সমন্বয় করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে আলাদা করে বড় ধরনের অতিরিক্ত বাজেট চাপ তৈরি হবে না।
তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিক সামাজিক সুবিধা পাচ্ছেন—এ ধরনের পুনরাবৃত্তি কমিয়ে সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তাঁর মতে, এতে নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ সংযোজনের প্রয়োজন পড়বে না।
অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহৃত হবে—যেমন খাদ্য, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ইত্যাদি। এসব ব্যয় মূলত দেশীয় উৎপাদন খাতে প্রবাহিত হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান দাবি করেন, এ ধরনের নগদ সহায়তা কর্মসূচি স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, “এটি ব্যয় নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই কর্মসূচি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তা কমাতেও সহায়তা করতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে, যাদের মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কৃষি কার্ড কর্মসূচির আওতায় কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধখামারিদের জন্য একাধিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া এ বক্তব্য ঘিরে অর্থনৈতিক নীতি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।