প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
বিচার কার্যক্রমে অনুপ্রবেশ করে আপত্তিকর দৃশ্য দেখানোয় উত্তেজনা দিল্লি হাইকোর্টে

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট–এর ভার্চ্যুয়াল বিচারিক কার্যক্রমে নজিরবিহীন সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার অনলাইন শুনানির সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আদালতের ভিডিও কনফারেন্সে অনুপ্রবেশ করে একাধিকবার অশ্লীল ভিডিও ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট প্রদর্শন করেন।
তথ্যসূত্র: The Indian Express
ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১২টার কিছু পর, যখন প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়া একটি ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। শুনানির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম “Webex”।
আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন হঠাৎ এক অজ্ঞাত আইডি থেকে সেশনে প্রবেশ করা হয়। ওই ব্যক্তি নিজের স্ক্রিন শেয়ার করে অশ্লীল দৃশ্য সম্প্রচার শুরু করেন। আদালতের প্রযুক্তি সহায়ক টিম দ্রুত তাকে সেশন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই একই ব্যক্তি পুনরায় সেশনে প্রবেশ করে আবারও অশ্লীল কনটেন্ট প্রদর্শন করেন। তৃতীয়বার যুক্ত হয়ে তিনি একটি অডিও বার্তা চালান, যেখানে দাবি করা হয়—সিস্টেমটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে এবং শুনানি বন্ধ রাখা উচিত।
ঘটনাটির পরপরই আদালত কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট আইডি একাধিকবার ব্লক করা হয়।
এ ঘটনায় ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দিল্লি হাইকোর্টের একাধিক এজলাসে পরিকল্পিত অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি বিচার বিভাগের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় এ ধরনের ঘটনার ভিডিও ও কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় প্রশাসনিকভাবে নির্দেশ দেন যে দিল্লি হাইকোর্ট–এর রেজিস্ট্রার জেনারেল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
পরে আদালতের নিরাপত্তা জোরদার করতে ভার্চ্যুয়াল শুনানির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এখন থেকে ভিডিও লিংক “লক” করে দেওয়া হয়েছে, ফলে মডারেটরের অনুমতি ছাড়া কেউ সেশনে প্রবেশ করতে পারবেন না। অংশগ্রহণকারীদের নাম ও মামলার নম্বর স্পষ্টভাবে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া চ্যাট সিস্টেমে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—অপরিচিত বা অননুমোদিত অংশগ্রহণকারীকে সঙ্গে সঙ্গে সেশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তারা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভার্চ্যুয়াল বিচারিক ব্যবস্থার প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এখন বিচার ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আদালতের কার্যক্রমে এ ধরনের অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতে রোধ করতে শক্তিশালী ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস