প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
জাহাজ জব্দের ঘটনায় আটক ৬ ইরানি ক্রুকে মুক্তি দিল ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা একটি ইরানি কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে ছয়জন ক্রুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
তবে জাহাজটিতে থাকা আরও ২২ জন ইরানি ক্রু এখনো আটক অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের মুক্তির জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০ এপ্রিলের অভিযানে জব্দ হয় জাহাজ
গত ২০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি কনটেইনারবাহী ইরানি জাহাজ জব্দ করে। জাহাজটির নাম ‘তউসকা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহাজটিতে তখন মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ছয়জনকে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়।
মার্কিন পক্ষের দাবি, জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় নৌ নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধি লঙ্ঘন করে চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (United States Central Command (CENTCOM)) জানিয়েছে, নৌ অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে জাহাজটিকে নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অমান্য করায় জাহাজটি আটক করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে “অবৈধ আটক” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং ক্রুদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তেহরান বলছে, জাহাজ ও ক্রুদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তেহরান আরও জানিয়েছে, বাকি ২২ জন ক্রুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি–কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে, ফলে এখানে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাহাজ জব্দ এবং ক্রু আটক–মুক্তির এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে নৌ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস