
যুক্তরাষ্ট্রের জন গারামেন্ডি ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক পরিস্থিতিকে “চোরাবালি” (quagmire) বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধ কৌশলগতভাবে ভুল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ গভীর সংকটে পড়ছে।
বুধবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটি শুনানি–তে বক্তব্য দিতে গিয়ে গারামেন্ডি এই মন্তব্য করেন। শুনানিতে তিনি ইরান যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।
‘আমেরিকার নিজের ওপর আঘাত’ মন্তব্য
গারামেন্ডি বলেন, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং শত শত আহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের “নিজের ওপর নিজে করা গুরুতর আঘাত”।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রশাসন জনমতকে বিভ্রান্ত করেছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই অনুমানযোগ্য ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গারামেন্ডি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ–এর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রশাসন শুরু থেকেই জনগণকে ভুল তথ্য দিয়েছে এবং যুদ্ধের বাস্তবতা আড়াল করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই সংঘাতের ফলে ইরান এখনো তার সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া গারামেন্ডি বলেন, এই যুদ্ধ চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
‘চোরাবালি’ মন্তব্যে হেগসেথের তীব্র প্রতিক্রিয়া
গারামেন্ডির বক্তব্যের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তা “বেপরোয়া” মন্তব্য বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধকে “চোরাবালি” বলা বাস্তবতার অপব্যাখ্যা এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের হাতে প্রচারণার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
হেগসেথ আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত ঘৃণা থেকে এমন মন্তব্য করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন।
কৌশলগত বিতর্কে নতুন উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং ইরান নীতিকে ঘিরে দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যুদ্ধের ব্যয়, মানবিক ক্ষতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ সৃষ্টি করছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি-সংকট নতুন মাত্রা পেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।