
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নতুন উৎস থেকে সরাসরি তেল কেনার উদ্যোগ নেয়। এ প্রক্রিয়ায় ৫৬টি বিদেশি কোম্পানি আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কাজ পেয়েছে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান, আরও কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো—গত দুই মাসেও এসব কোম্পানির কেউ জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করেনি। অর্থাৎ ‘জরুরি সরবরাহ’ হিসেবে যে তেল আসার কথা ছিল, তা এখনো পৌঁছায়নি। এদিকে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তেল কেনার প্রস্তুতি চলছে।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের তুলনায় ভিড় কমেছে। মে মাসের শুরুতে অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, পাশাপাশি আরও দুটি জাহাজ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। মে মাসে ডিজেলের চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টন, যার বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার টন। অকটেনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, প্রতি বছর দুই ধাপে মোট ছয় মাসের জন্য তেল কেনার পরিকল্পনা করা হয়। এর অর্ধেক সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তিতে এবং বাকি অর্ধেক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সরাসরি তেল কেনার উদ্যোগ নেওয়ায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জরুরি ভিত্তিতে তেল কেনার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে অগ্রগতি কম। একটি মার্কিন কোম্পানিকে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি জমা দিতে পারেনি, ফলে তাদের কার্যাদেশ বাতিল হয়। একইভাবে আরও বহু কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও এখনো কার্যকর সরবরাহ শুরু হয়নি।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রস্তাব দেওয়া অনেক কোম্পানিরই তেল সরবরাহের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা সীমিত। বেশিরভাগই মধ্যস্বত্বভোগী বা ট্রেডিং ধাঁচের প্রতিষ্ঠান, যারা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ খোঁজে। অতীতে বৈশ্বিক সংকটের সময়ও এমন কোম্পানিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করতে পারেনি।
বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত প্রায় ১৫ দিনের মতো রয়েছে, আর অকটেনের মজুত প্রায় ৩৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। পেট্রলের মজুত তুলনামূলক কম হলেও এর একটি বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হলেও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া চুক্তি করলে ঝুঁকি বাড়ে। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হলে সরবরাহে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হতো না।