
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে আয়োজিত এই শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার ধর্মকে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে না।
ধর্মীয় সাম্য ও ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন:
সর্বজনীন অধিকার: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি, অনগ্রসর নৃ-গোষ্ঠী, বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী—সবাই রাষ্ট্রের কাছে সমান। বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংখ্যালঘু বিতর্ক: তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কেউ নিজেকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার। আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা 'বাংলাদেশি'।”
জাতীয়তাবাদী দর্শন: তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, একমাত্র 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' দর্শনই পারে দেশের সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে।
গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ও মানবিক শিক্ষা
বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
মহামতি গৌতম বুদ্ধের 'পঞ্চশীল নীতি' (অহিংসা, চুরি ও মাদক বর্জন, মিথ্যা না বলা ইত্যাদি) কেবল বৌদ্ধদের জন্য নয়, বরং পুরো মানবজাতির কল্যাণের পথ দেখায়।
প্রেম, অহিংসা এবং জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনের যে শিক্ষা বৌদ্ধ ধর্মে রয়েছে, তা একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গঠনে অপরিহার্য।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নিরাপদ বাংলাদেশ
দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন:
মুক্তিযোদ্ধারা একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই দেশ স্বাধীন করেছিলেন।
যুদ্ধের ময়দানে কে কোন ধর্মের অনুসারী ছিল, তা কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। সেই একই চেতনায় বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে।
বিশেষ সম্মাননা ও উপস্থিতি
অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দীন আহমদ
ধর্মমন্ত্রী: শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী: দিপেন দেওয়ান
প্রতিমন্ত্রী: মীর হেলাল উদ্দিন
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ।