প্রিন্ট এর তারিখঃ May 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 1, 2026 ইং
উত্তেজনা বাড়ছে, নতুন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত দুই মাস পেরিয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় এই জলপথ দিয়ে। ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তারা কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থান বজায় রেখেছে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক চাপ
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার একটি উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই তেহরান থেকে সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাজধানীতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর জানায়, ড্রোন ও নজরদারি বিমান শনাক্ত করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কঠোর ও বিস্তৃত পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।
এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং কৌশলগত নিরাপত্তা স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈশ্বিক প্রভাব ও উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই রুট বন্ধ বা অস্থিতিশীল থাকলে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সামরিক উত্তেজনার নতুন ধাপ
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে ওয়াশিংটনের সামরিক চাপ, অন্যদিকে তেহরানের কঠোর প্রতিরোধমূলক অবস্থান—এই দুইয়ের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এখন কেবল দুই দেশের দ্বন্দ্ব নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় সংকটে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস