প্রিন্ট এর তারিখঃ May 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 1, 2026 ইং
অসম্মানজনক মন্তব্যের জেরে কড়া প্রতিবাদ

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশ সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে খাটো করার পাশাপাশি কথিত ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ও ‘পুশব্যাক’ সংক্রান্ত যে অমূলক দাবি করা হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) ইশরাত জাহানের দপ্তরে বিকেল পাঁচটার পর ভারতীয় দূতকে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
ঢাকার অনড় অবস্থান ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুরক্ষা
ভারতীয় দূতের সঙ্গে দীর্ঘ সময় চলা ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ধরণের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে প্রকাশ্য মন্তব্য করা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কেবল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং কূটনৈতিক সদিচ্ছাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে কোনো অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনেই সমাধানযোগ্য; রাজপথে বা গণমাধ্যমে এমন বিতর্কিত আলোচনার সুযোগ নেই।
ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার আহ্বান
প্রতিবাদলিপিতে ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ঢাকা প্রত্যাশা করে যে, ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্ররোচনায় এমন কোনো মন্তব্য থেকে বিরত থাকবে যা প্রতিবেশীর সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় সম্মানে আঘাত হানে। বিশেষত রাজনৈতিক উচ্চপদে আসীন ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও পরিপক্ক কূটনৈতিক আচরণ কাম্য বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, এই তলব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লিকে একটি জোরালো বার্তা দেওয়া হলো—যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভারতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশকে নিয়ে অনভিপ্রেত মন্তব্য করার আগে সচেতন থাকেন। সরকার দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস