
ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন অনেকটাই স্বস্তির চিত্র ফিরে এসেছে। কোথাও তেমন ভিড় নেই, আবার কোথাও স্বাভাবিক দিনের মতোই গাড়ি এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। ব্যস্ত পাম্পগুলোতেও সীমিত সংখ্যক গাড়ি সারিবদ্ধভাবে জ্বালানি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক দিনে সরবরাহ বাড়ার কারণে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে চাহিদাও কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
জ্বালানি খাতের দায়িত্বশীল সংস্থা, তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান এবং পাম্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাধিক কারণ মিলেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা কমে আসা, অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান এবং ফুয়েল পাস চালুর মতো পদক্ষেপও ভূমিকা রেখেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। হঠাৎ করেই তেল নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। বিশেষ করে রাজধানীতে অকটেন ও পেট্রলের জন্য ভিড় বেশি ছিল, আর জেলা পর্যায়ে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যায়।
মার্চের শুরুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে থাকেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও পরে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়, তবুও সরবরাহ কম থাকায় ভিড় পুরোপুরি কমেনি।
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে বাজারে একটি বড় পরিবর্তন আসে। দাম বাড়ার পর চাহিদা কিছুটা কমে যায়। এরপরই বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হলে ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমতে শুরু করে।
পাম্প মালিকদের মতে, সংকটের সময় মানুষের মধ্যে বাড়তি তেল মজুতের প্রবণতা তৈরি হয়। এতে স্বাভাবিক চাহিদার বাইরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কিন্তু সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সেই প্রবণতা কমে গিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। তাই এই সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
সরবরাহের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, বরাদ্দের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে বেশি জ্বালানি বাজারে দেওয়া হয়েছে। এতে করে আগের চাপ কমেছে এবং চাহিদাও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল—সব ক্ষেত্রেই সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, ফলে ক্রেতারা সহজেই জ্বালানি পাচ্ছেন।
খাতসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, যুদ্ধবিরতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্থিতি এসেছে, যা দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে সরকারের নজরদারি জোরদার, গুজব প্রতিরোধে প্রচারণা এবং অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে। ফুয়েল পাস চালুর ফলে একই গাড়ির বারবার তেল নেওয়ার প্রবণতাও কমেছে।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের বড় কোনো সংকট নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন করে আমদানির প্রক্রিয়াও চলমান আছে। সামনের মাসগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলেও তারা আশাবাদী।