প্রিন্ট এর তারিখঃ May 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 3, 2026 ইং
নিজ উদ্যোগে টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরি করে আলোচনায় কিশোর উদ্ভাবক

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই নিজ বাড়িতে বসে একটি টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরি করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চীনের এক কিশোর। চে জিংআং নামের ওই কিশোরকে চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘সেলফ-মেড ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
চে জিংআং-এর দাবি, ছোটবেলা থেকেই উড়োজাহাজ ও মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই খুব অল্প বয়সে সে ক্যালকুলাস ও অ্যারোডাইনামিকসের মতো জটিল বিষয় নিজে নিজে শিখতে শুরু করে। তার ভাষায়, “উড়ন্ত সবকিছু নিয়েই” তার অগাধ কৌতূহল।
পরিবারের সহায়তায় পরিচালিত তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। সেখানে নিয়মিতভাবে সে টার্বোজেট ইঞ্জিন নির্মাণের ধাপ, পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা তুলে ধরে ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওগুলোর একটি বড় অংশ পরিচালনা করেন তার মা।
চে দাবি করেছে, সে নিজেই বাড়িতে বসে একটি টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরি করেছে এবং এর বিভিন্ন ধাপ ভিডিও আকারে নথিভুক্ত করেছে। প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ইঞ্জিন পরীক্ষা চলাকালে সৃষ্ট শব্দ ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে সে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। অনলাইনে সে নিজেকে “রকেট বয়” হিসেবেও পরিচয় দেয়।
তবে তার এই দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী তার প্রকৃত দক্ষতা ও ভিডিওগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কিছু সমালোচক লক্ষ্য করেছেন, চে জিংআং-এর অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক স্তরের গণিত সমস্যার সমাধান সম্পর্কিত ভিডিওও রয়েছে, যা দেখে তার ক্যালকুলাস দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেকে বলছেন, এত অল্প বয়সে এ ধরনের জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আরও কিছু অনলাইন মন্তব্যে দাবি করা হয়েছে, চে জিংআং-এর বাবা একজন মহাকাশ প্রকৌশলী এবং তিনি শিচাং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র–এর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
একাংশ নেটিজেন মনে করছেন, পরিবারের উচ্চশিক্ষিত পটভূমির কারণেই হয়তো চে জিংআং প্রযুক্তিগত বিষয়ে এমন আগ্রহ ও সুযোগ পেয়েছে।
চে জিংআং–কে নিয়ে অনেকে তুলনা করছেন আরেক আলোচিত কিশোর জিয়াং পিং–এর সঙ্গে। ২০২৪ সালে গণিত প্রতিযোগিতায় বিতর্কিতভাবে আলোচনায় আসা এই কিশোরও পরবর্তীতে প্রতারণার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে সামাজিক মাধ্যম বড় ভূমিকা রাখলেও, অতিরঞ্জিত উপস্থাপন অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ফলে চে জিংআং–এর মতো ঘটনাগুলো নিয়ে যাচাই–বাছাই ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
এদিকে চীনের স্থানীয় প্রযুক্তি ও শিক্ষা মহলে বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে কেউ তার উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস