প্রিন্ট এর তারিখঃ May 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 3, 2026 ইং
শাপলা চত্বর অভিযান ও তদন্তের বর্তমান চিত্র

২০১৩ সালের ৫ মে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবিতে ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তৎকালীন সরকারের নারীনীতি এবং কতিপয় ব্লগারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। দিনভর সংঘর্ষের পর গভীর রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে এলাকাটি জনশূন্য করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সেই রাতের অভিযানে কতজন প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধোঁয়াশা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাতে এসেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান থাকায় নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া
চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন যে, এই মামলার তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কারণে প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল বলে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এখন ডিজিটাল এভিডেন্স, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং হাসপাতালে সংরক্ষিত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে প্রকৃত হতাহতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে শিগগিরই দায়ীদের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। আমিনুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রতিটি নিহতের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনমনে প্রভাব
তদন্ত সংস্থা মনে করছে, শাপলা চত্বরের সেই ঘটনাটি বাংলাদেশের মানবাধিকার ইতিহাসের অন্যতম একটি স্পর্শকাতর অধ্যায়। সেদিন পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির বিশেষ অভিযানে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তদন্তের মাধ্যমে সেই রাতে প্রকৃত কী ঘটেছিল এবং কতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন—সেই সত্যটি উন্মোচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত সংস্থা এটিও খতিয়ে দেখছে যে, কোনো ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের ওপর এমন অভিযান চালানো হয়েছিল কি না।
বক্তব্যের শেষে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও সেই সময়ে সংঘটিত অন্যান্য সহিংসতার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে তুলে ধরা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস