
রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুন লাগানোর ঘটনায় শহীদ হোসাইন হৃদয় (৩০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে। আটক ব্যক্তিরা সবাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।
শনিবার রাতে মিরপুর এলাকা থেকে শহীদ হোসাইনকে আটক করা হয়। তিনি ওই দপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিনজন হলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আসমাউল ইসলাম, গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস এবং স্টোরকিপার মো. হুমায়ুন কবির খান।
রোববার চারজনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ভোরের মধ্যে স্টোররুমে আগুন লাগানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরা এক ব্যক্তি কয়েক দফায় কক্ষে প্রবেশ করে কিছু মালামাল ও ল্যাপটপ বের করে নিয়ে যায়। পরে আগুন লাগিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনাকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন কর্মীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছদ্মবেশে আগুন লাগান এবং এ কাজে তাঁকে অর্থ দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্টোররুমে থাকা শতাধিক ল্যাপটপ পুড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ল্যাপটপের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে কাজ চলছে।
এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।