
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দায়ের বন্দরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। একই সময় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে ইরান।
দায়ের বন্দরে জাহাজে আগুন
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত অনুযায়ী, দায়ের বন্দরের একটি জেটিতে থাকা কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লাগে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
দায়ের বন্দর ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মজিদ ওমরানি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযোগ
একই সঙ্গে সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বেসামরিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
তেহরান জানিয়েছে, হামলার শিকার নৌযানগুলো কোনো সামরিক সংস্থা নয়, বরং সাধারণ বেসামরিক মালিকানাধীন ছিল। তারা আরও দাবি করে, এসব নৌযান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না।
নৌচলাচল ও সামরিক অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো রাডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। পরে ইরানি নৌবাহিনী রাডার শনাক্তের মাধ্যমে অবস্থান চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক প্রতিক্রিয়া জানায়।
তেহরানের দাবি, কমব্যাট ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবহার করে সতর্কবার্তা দেওয়া হলে মার্কিন জাহাজগুলো এলাকা ত্যাগ করে।
ইরান আরও জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রবেশকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনিশ্চিত
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ইরানের অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে এমন উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
একদিকে বন্দরে অগ্নিকাণ্ড, অন্যদিকে সামরিক সংঘাতের অভিযোগ—দুই ঘটনাই একযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
তথ্যসূত্র
এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানি রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে।