
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’।
বুধবার রাতে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. আজম খানের সই করা এক বিবৃতিতে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, উপাচার্যকে লক্ষ্য করে অনলাইনে যেসব মন্তব্য করা হচ্ছে, তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করছে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব মন্তব্যে ব্যবহৃত ভাষাকে অশোভন ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠিত হওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ছাত্র সংসদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা ও একাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু কর্মকাণ্ড সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাদা দল মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপাচার্য ছাত্র সংসদেরও সভাপতি। তাই পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়াই সবার দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে উপাচার্যকে নিয়ে চলমান সমালোচনা তাঁর ভাবমূর্তি ও কাজের উদ্দীপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে এমন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংসদের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয়, যা শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
এছাড়া, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। সাদা দলের পক্ষ থেকে ছাত্র সংসদের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।