প্রিন্ট এর তারিখঃ May 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 14, 2026 ইং
ভূ-রাজনীতির মোড় ঘোরানোর বৈঠক: ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বিশাল কনফারেন্স রুমে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা বর্তমানে আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা এবং বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সঙ্গে মার্কিন উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্যে কীভাবে পড়ছে, তা এই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েও এখানে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ওয়াশিংটনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। বৈঠকে ট্রাম্পের পাশেই রয়েছেন:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী: মার্কো রুবিও
প্রতিরক্ষামন্ত্রী: পেটে হেগসেথ
বাণিজ্য প্রতিনিধি: জেমিসন গ্রিয়ার
বাণিজ্যমন্ত্রী: স্কট বেসেন্ট
প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক নীতিনির্ধারকদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বৈঠকে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং শুল্ক আরোপ ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জটিল বাণিজ্যিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীনের গোপনীয়তা ও বিশ্ববাজারের প্রতীক্ষা
চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গী হিসেবে কারা এই বৈঠকে রয়েছেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। বেইজিংয়ের এই গোপনীয়তা বজায় রাখার কৌশলটি প্রথাগত হলেও, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের শারীরিক ভাষা এবং বৈঠকের শুরুর দিকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য থেকে একটি ইতিবাচক ফলের আশা করছে বিশ্ববাজার। এই বৈঠকের খবরের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজার ও তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের এই মুখোমুখি অবস্থান যদি কোনো কার্যকরী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং সংঘাত নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ কোনো ইশতেহার বা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস