প্রিন্ট এর তারিখঃ May 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 14, 2026 ইং
মন্ত্রণালয় ও শিক্ষার্থীদের দাবির সমন্বয়: এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে ৩১ ডিসেম্বর

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইতিপূর্বে ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হঠাৎ পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিপক্ষে মত দিয়ে জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই দুই পক্ষের মতামতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই মন্ত্রণালয় ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার অভিনব প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষামন্ত্রীর ডিসেম্বরে পরীক্ষা শুরুর ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জানুয়ারি মাসজুড়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগও বহাল থাকছে।
পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি ও পরিকল্পনা
প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা হবে মোট ৩৮ দিনের একটি সুশৃঙ্খল রুটিনে। পরিকল্পনাটি নিম্নরূপ:
তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা: ৩১ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ব্যবহারিক পরীক্ষা: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সম্ভাব্য পবিত্র রমজান মাসের ছুটি শুরু হতে পারে। শিক্ষার্থীদের রোজা ও ঈদের ছুটির ঝক্কি থেকে মুক্ত রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা শেষ করতেই এই সময়সীমা বিবেচনা করা হচ্ছে।
‘অভিন্ন প্রশ্নপত্র’ ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার
২০২৭ সালের এসএসসিতে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমবারের মতো সারা দেশে সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, আগামী বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে পুরোপুরি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নিয়ে আসতে একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে, যাতে শিক্ষাবর্ষের সেশনজট পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়।
নীতি-নির্ধারকদের অবস্থান
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষামন্ত্রী নিজেই ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া সময়সূচি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। এই সময়সূচিটি বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমন্বিত সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পর্যাপ্ত সময় মিলবে এবং একই সাথে শিক্ষাবর্ষের শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে। সব মিলিয়ে, একটি চাপমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা পদ্ধতি উপহার দেওয়াই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অগ্রাধিকার।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস