
হাম আক্রান্ত শিশুদের জরুরি চিকিৎসা ও হাসপাতালভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ)। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত এই চিকিৎসক সংগঠন জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় দিশাহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমন্বিতভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির আহ্বায়ক শাদরুল আলম এবং সদস্যসচিব মো. আবদুল আহাদ-এর উদ্যোগে এ হেল্পলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
হাসপাতালভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক টিম
এনএইচএ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদের মাধ্যমে হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসকদের নাম ও মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চিকিৎসক মো. জুলফিকার (01710498909) ও মাশুক (01835512550)।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের জন্য দায়িত্বে থাকবেন চিকিৎসক সাইয়েদ (01706520987) ও সানি (01558959650)।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন (01608073642) ও মাজহারুল ইসলাম (01540752487) দায়িত্ব পালন করবেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সহায়তার জন্য চিকিৎসক তন্নী শেখ (01999398779), আল আমিন (01718662463), হাবিব (01533794744) ও তাওফিক ইমন (01310938573) কাজ করবেন।
এ ছাড়া মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান (01770591529) ও উসামা (01826711924) দায়িত্বে থাকবেন। মিরপুরে অবস্থিত ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে চিকিৎসা সহায়তা দেবেন চিকিৎসক আশিকুর রহমান শুভ (01676565118)।
জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ
এনএইচএ জানায়, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
সংগঠনটি আরও জানায়, হেল্পলাইনটির মাধ্যমে অভিভাবকরা সরাসরি নির্ধারিত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও চিকিৎসা সহায়তা পাবেন।
চিকিৎসা সেবায় স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা
এনএইচএ–এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় কোনো পরিবার একা না পড়ে।
সংগঠনটির দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং হাসপাতালে ভিড় ও বিভ্রান্তি কমবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় এ ধরনের সমন্বিত হেল্পলাইন ব্যবস্থা রোগী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।