
দেশে ক্রীড়াবিজ্ঞানে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ক্রীড়াবিজ্ঞানে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন স্পোর্টস সায়েন্স কোর্স পরিচালনা করছে। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এ কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
ঢাকার সাভারে অবস্থিত বিকেএসপির ক্রীড়াবিজ্ঞান শাখায় পরিচালিত এই কোর্সের লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২২ জুন ২০২৬, সকাল ১১টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে।
যেসব বিষয়ে ডিপ্লোমা করা যাবে
স্পোর্টস সায়েন্সের চারটি বিশেষায়িত বিষয়ে এ স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রদান করা হবে। বিষয়গুলো হলো—
এক্সারসাইজ ফিজিওলজি
স্পোর্টস সাইকোলজি
স্পোর্টস বায়োমেকানিকস
সায়েন্স অব স্পোর্টস ট্রেনিং (জিটিএমটি)
আবেদনের যোগ্যতা
যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক—এই তিন পরীক্ষার মধ্যে অন্তত একটিতে দ্বিতীয় বিভাগ বা ন্যূনতম জিপিএ ২.২৫ থাকতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক অতিরিক্ত যোগ্যতা:
এক্সারসাইজ ফিজিওলজি ও স্পোর্টস বায়োমেকানিকস
এই দুই বিষয়ে ভর্তির জন্য বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
স্পোর্টস সাইকোলজি
মনোবিজ্ঞান অথবা দর্শন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন।
সায়েন্স অব স্পোর্টস ট্রেনিং (জিটিএমটি)
বিপিএড বা এমপিএড (শারীরিক শিক্ষা) ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভাগীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচ
রেজিস্ট্রেশন ও ভর্তি ফি: ৫,০০০ টাকা
ফেরতযোগ্য জামানত: ৫,০০০ টাকা
মাসিক বেতন: ৫০০ টাকা
অর্থাৎ ভর্তি সময় মোট ১০,০০০ টাকা জমা দিতে হবে, যার মধ্যে ৫,০০০ টাকা কোর্স শেষে ফেরতযোগ্য।
আবেদন পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিকেএসপির ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Registration’ অপশনে ক্লিক করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।বিকেএসপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কোর্স
বর্তমান সময়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে পারফরম্যান্স উন্নয়ন, ইনজুরি প্রতিরোধ, মানসিক প্রস্তুতি এবং বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় স্পোর্টস সায়েন্সের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এই কোর্স সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ফিটনেস ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান এবং জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া উন্নয়ন কার্যক্রমে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
ক্রীড়া বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় আগ্রহী স্নাতকদের জন্য এটি হতে পারে বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।