
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ী থানার অস্ত্রাগার থেকে বিভিন্ন এলাকায় গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মৃগাংক শেখর তালুকদার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই তিনি চায়না রাইফেলের ১০০ রাউন্ড গুলিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের গোলাবারুদ সরবরাহ করেন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন মৃগাংক শেখর। রাজধানীর কাজলা এলাকায় জুলাই আন্দোলনের সময় শহীদ ইমাম হাসান (তাইম) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় তিনি ১৯তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন।
সেই সময় মৃগাংক শেখর যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পিরোজপুর শহর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ইউনিট থেকে অতিরিক্ত গুলির চাহিদা আসত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী থানার অস্ত্রাগার থেকে সেগুলো সরবরাহ করা হতো।
তিনি আরও জানান, ২০ জুলাই কনস্টেবল মোবারকের নির্দেশে তিনি ওয়ারী বিভাগের ডিসি কার্যালয়ের সামনে কিছু গোলাবারুদ পৌঁছে দেন। অস্ত্রাগার থেকে তাঁকে ২০০টি সিসা বুলেট ও ২০টি গ্রেনেড দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি সেগুলো সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এহসানের কাছে হস্তান্তর করেন।
একই দিন রাতের দিকে আবারও তাঁকে শনির আখড়া এলাকায় অতিরিক্ত গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তখন তিনি চায়না রাইফেলের ১০০টি গুলি, শর্টগানের ২৫০ রাউন্ড গুলি এবং ৪০টি গ্রেনেড নিয়ে সেখানে যান। পরে সংশ্লিষ্ট ওসির নির্দেশে সেগুলো একটি গাড়িতে রাখা হয়।
এই মামলায় মোট আসামি ১১ জন। এর মধ্যে ৯ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার ইকবাল হোসাইনসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।
বর্তমানে কারাগারে থাকা দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং সাবেক এসআই শাহদাত আলী। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।