প্রিন্ট এর তারিখঃ May 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 20, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে তেল পরিবহন সম্পন্ন করল চীনের সুপারট্যাংকার দুটি

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে চীনের দুটি সুপারট্যাংকার, যেগুলোতে মোট প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্যের বরাতে জানিয়েছে Al Jazeera এবং Reuters।
জাহাজ চলাচল তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি ও কেপলারের ডেটা অনুযায়ী, এই দুটি ট্যাংকারের নাম Yuan Gui Yang এবং Ocean Lily। বুধবার তারা বহুল আলোচিত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, “ইউয়ান গুই ইয়াং” ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি লোড করা হয়েছিল। অপর ট্যাংকার “ওশান লিলি”-তেও একই পরিমাণ, অর্থাৎ ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করা হচ্ছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিক বা মার্চের শুরুতে লোড করা হয়।
সূত্র বলছে, ট্যাংকার দুটি ইরান-সম্পর্কিত সামরিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল। ওই সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অস্থিরতা তৈরি হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও ওঠানামা দেখা দেয়।
সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানও বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সীমিত হয়ে পড়ে এবং বহু বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে যায়।
ইরান দাবি করেছে, কৌশলগত এই জলপথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে নির্ধারিত রুট অনুসরণ এবং নির্দিষ্ট হারে টোল পরিশোধ করতে হবে। তেহরান প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিজস্ব শর্ত আরোপের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন বন্দরে নৌযান চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যা ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা।
এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোও কূটনৈতিকভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ সম্পূর্ণভাবে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। দুটি সুপারট্যাংকারের সফল অতিক্রমকে তাই সাময়িক হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস