
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে নেতৃত্ব, নৈতিকতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে।
বুধবার (২০ মে) রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘হলদে পাখি নীলকমল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, আগামী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই না করে, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক ও দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে দেশ-বিদেশে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে।
তিনি জানান, এই বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি কেবল গার্ল গাইডস সদস্যদের মধ্যেই নন, বরং আগামী বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে দেখছেন। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।
নতুন কারিকুলামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবজীবনভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিশুদের শেখানো হবে কীভাবে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হয়, কীভাবে নিজেদের স্কুল, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, শিশুকাল মূলত আনন্দের মাধ্যমে শেখার সময়। এ বয়সে অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা ভারী বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীল কার্যক্রম ও আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে সহজে পাঠ গ্রহণ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে ‘নীলকমল অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত হলদে পাখি সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অর্জন দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
এ বছর সারা দেশ থেকে মনোনীত মোট ৫৭ জন হলদে পাখি সদস্যকে মর্যাদাপূর্ণ ‘নীলকমল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন–এর জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগম–এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।