প্রিন্ট এর তারিখঃ May 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 21, 2026 ইং
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান

রয়টার্স, ওয়াশিংটন
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ গঠনের ঘোষণা দেয়।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে গেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রে ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় কিউবার বিমানবাহিনী নির্বাসিত কিউবানদের সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর দুটি উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করে। ওই ঘটনায় চারজন মার্কিন-সম্পৃক্ত কর্মী নিহত হন বলে দাবি করা হয়।
মার্কিন তদন্ত সংস্থাগুলোর দাবি, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তারা এই হামলার সঙ্গে রাউল কাস্ত্রোর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৯৪ বছর বয়সী কাস্ত্রো মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড এবং উড়োজাহাজ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে রাউল কাস্ত্রো কোথায় আছেন বা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি মাসের শুরুতে তাঁকে কিউবায় দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সাধারণত কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ফৌজদারি মামলা বিরল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নীতি আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে কানেকটিকাটে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “হাভানা থেকে পানামা খাল পর্যন্ত আমরা আইনভঙ্গ, অপরাধ ও বিদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব।”
এদিকে ১৯৯৬ সালের ওই ঘটনার স্মরণে মায়ামিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ। তিনি জানান, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।
ব্ল্যাঞ্চ বলেন, তাঁরা আশা করেন কাস্ত্রো একদিন বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। তাঁর এই বক্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে করতালির সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ সালের ঘটনায় কিউবা তার সার্বভৌম সীমান্ত রক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিল।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক বা কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির আরেকটি প্রচেষ্টা। এটি “ভুল সিদ্ধান্ত” হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন অভিযোগ দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস