প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 23, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে চমক, পদত্যাগ করছেন তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। শুক্রবার এ তথ্য জানায় রয়টার্স।
তিনি জানিয়েছেন, স্বামীর গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী বছরের ৩০ জুন, ২০২৬ থেকে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হবে।
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লেখা পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী আব্রাহামের সম্প্রতি বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসার (bone cancer) ধরা পড়েছে।
তিনি লেখেন, “আমার স্বামী আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের চিকিৎসা ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। এই সময়ে তার পাশে থাকা এবং তাকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন।”
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদ
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের (Director of National Intelligence—DNI) পদটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ার হামলার পর এই পদটি সৃষ্টি করা হয়, যাতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা যায়।
এই পদকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনয়ন
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তুলসী গ্যাবার্ডকে এই পদে মনোনীত করেছিলেন।
তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হন।
পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে পদত্যাগে “বাধ্য করা হয়েছে”।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্পের আগের মন্তব্য
এর আগে ইরান ইস্যুতে তুলসী গ্যাবার্ডের অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। গত মার্চে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বিষয়ে গ্যাবার্ড তাঁর তুলনায় “অতিরিক্ত নমনীয়” অবস্থান নিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশাসনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে নীতি–ভিন্নতা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস