প্রিন্ট এর তারিখঃ May 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 24, 2026 ইং
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়–এ সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কঠোর নীতিমালা অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার হওয়া কোনো শিক্ষার্থী বহিষ্কারকালীন সময়ে ক্লাস, সেমিস্টার কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, একাডেমিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিধিবিধান মেনে চলার প্রবণতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, সাময়িক বহিষ্কারের শাস্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলে শাস্তির কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেই সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ, সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়তে থাকায় প্রশাসনগুলো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিদ্ধান্তও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে নতুন সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কারকালীন সময়ে কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক রাখতে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে বলে প্রশাসন আশা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিন্ডিকেটে অনুমোদিত সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনাও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পাঠানো হবে। ফলে ভবিষ্যতে সাময়িক বহিষ্কারের আওতায় পড়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালাই অনুসরণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োজন হলেও একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ সাময়িক বহিষ্কার অনেক সময় শিক্ষার্থীর একাডেমিক অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগ তদন্ত, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং শাস্তি নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস