
যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তান–ও আলোচনায় “উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতির” কথা জানিয়েছে।
রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার দুবাই ও নয়াদিল্লি থেকে আলাদা আলাদা বিবৃতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখন একটি সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding) চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তেহরান বলছে, আলোচনার কাঠামোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার তেহরানে দেশটির শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বৈঠক করেন।
বৈঠকে গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র “সৎ নয়” এবং ইরান তার জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
একই দিনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন জেনারেল মুনির।
পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে “উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি” হয়েছে।
ভারত সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও চলমান।
তিনি বলেন, “আজ, আগামীকাল বা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কিছু ঘোষণা আসতে পারে।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর পক্ষ থেকেও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এসব ফোনালাপের বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা গেছে, তবে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, এসব বিষয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি পরিস্থিতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি